হ্যাকারদের জন্য ইভিএম উন্মুক্ত করে দেয়ার পারামর্শ
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নিরাপত্তা জোরদারে হ্যাকারদের সহায়তা নিয়ে এর ত্রুটি খুঁজে যন্ত্রটির অধিকতর উন্নয়ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। কমিটির সুপারিশ- ইভিএমের জন্য গবেষণাগার নির্মাণ করে মেশিনটি প্রতিনিয়ত যুগোপযোগী করতে হবে। এছাড়া মেশিনগুলো হ্যাকারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তারা ভোটযন্ত্রটির ত্রুটি বের করে আনতে পারবে। আর আয়োজনটা হতে হবে সবার জন্য উন্মুক্ত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ভোটযন্ত্রটিতে ভোটগ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণ চিহ্নিত করতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এমন প্রস্তাব দিয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে সেখানে এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোটগ্রহণ চালু করে। কিন্তু সেই মেশিনে ২০১৫ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বুয়েটের কাজ থেকে নেওয়া সব মেশিন বাদ দিয়ে নতুন করে আরো উন্নতমানের ইভিএম প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেয় কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন। আর সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই কেএম নূরুল হুদার বর্তমান কমিশন অধিক উন্নত ইভিএম বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি'র কাছ থেকে তৈরি করে নিচ্ছে।
জানা যায়, বর্তমানে ইসি’র সংগ্রহে দেড় লাখের উপরে ইভিএম রয়েছে। ইসি বর্তমানে যেই ইভিএম ব্যবহার করছে তার দু’টি ইউনিট। একটি কন্ট্রোল ইউনিট। আরেকটি ব্যালট ইউনিট। কন্ট্রোল ইউনিটে আঙ্গুলের ছাপ মিললেই ব্যালট ইউনিটে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যালট পেপার ওপেন হয়। তারপর সেখানে পছন্দের প্রতীকের পাশে রাখা বোতামে চাপ দিয়ে ভোট দেওয়া সম্পন্ন করা হয়। যাদের আঙ্গুলের ছাপ মেলে না, তারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সহায়তা নিয়ে ব্যালট ইউনিট ওপেন করে ভোট দিতে পারেন।